মূল অংশে যান

আসল কোরিয়ান স্কিনকেয়ার। ক্যাশ অন ডেলিভারি — খুলে দেখে, তারপর টাকা দিন।

পোর আর ব্ল্যাকহেড

পোর হলো লোমকূপের মুখ, যেখান দিয়ে ত্বকের তেল বের হয়; এটা খোলে না, বন্ধও হয় না। বেশি তেল, জমে থাকা মরা চামড়া, বয়স আর বংশগত কারণে পোর বড় দেখায়, আর তেল জমে কালো হলে ব্ল্যাকহেড। পোরের আসল মাপ কোনো পণ্যে বদলায় না, তবে তেল আর জমাট কমলে কম চোখে পড়তে পারে।

লেখা: Oliareen সম্পাদনা দলডাক্তারের রিভিউ: বাকিশেষ হালনাগাদ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬আমরা কীভাবে লিখি

পোর আসলে কী

প্রতিটা পোর একটা লোমকূপ আর তেলগ্রন্থির মুখ। পোরে কোনো পেশি নেই, তাই গরম পানিতে "খোলে" বা ঠান্ডা পানিতে "বন্ধ হয়", এমন নয়। গবেষণায় পোরের মাপের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক পাওয়া গেছে তেলের পরিমাণের; বয়স, পুরুষ হওয়া আর জাতিগত বৈশিষ্ট্যও ভূমিকা রাখে।

ব্ল্যাকহেড আর সিবেসিয়াস ফিলামেন্ট

  • ব্ল্যাকহেড: পোরে তেল আর মরা চামড়া জমে মুখ খোলা থাকে, বাতাসে রং কালো হয়। এটা ময়লা নয়; ব্রণের একটা হালকা ধরন।
  • সিবেসিয়াস ফিলামেন্ট: নাকে ধূসর-বাদামি ছোট বিন্দু, চাপলে সাদাটে সুতার মতো তেল বের হয় আর কয়েক দিনে আবার ভরে যায়। এটা স্বাভাবিক, সমস্যা নয়।

কী কী ভূমিকা রাখতে পারে

  • বেশি তেল, বিশেষ করে গরম-আর্দ্র মাসে।
  • মরা চামড়া জমা।
  • বয়সের সাথে ত্বকের টানটান ভাব কমা।
  • রোদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি।
  • চাপা আর খোঁটা, যাতে পোর চওড়া আর দাগ হয়।

যা ধরে নেবেন না

  • বড় পোর মানেই অপরিষ্কার ত্বক নয়।
  • কোনো পণ্য পোরের আসল মাপ "ছোট করে", এমন গবেষণা নেই; চেহারায় কম দেখাতে পারে।
  • নাকের প্রতিটা কালো বিন্দু ব্ল্যাকহেড নয়।

সাধারণ ভুল

  • নখ দিয়ে চাপা, পিন দিয়ে খোঁচানো।
  • পোর স্ট্রিপ আর পিল-অফ মাস্ক ঘন ঘন; সাময়িক পরিষ্কার দেখায়, জ্বালা বাড়ে।
  • স্টিম আর বরফ দিয়ে "খোলা-বন্ধ" করার চেষ্টা।
  • কড়া স্ক্রাব।

সাধারণ যত্ন

  • দিনে দুবার মৃদু ক্লেনজার।
  • হালকা, তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন।
  • সপ্তাহে কয়েক রাত একটা এক্সফোলিয়েটিং উপাদান, ধীরে শুরু।
  • ধৈর্য: চেহারায় বদল দেখতে সাধারণত ৪-৮ সপ্তাহ।

উপাদানের প্রমাণ আর সীমা

এগুলো পোরের চেহারায় সাহায্য করতে পারে, আসল মাপে নয়। প্রমাণ বেশিরভাগই ছোট বা মাঝারি।

  • Salicylic acid: তেলে মেশে, পোরের ভেতরের জমাট কমাতে পারে; ব্ল্যাকহেডে সবচেয়ে প্রচলিত।
  • Niacinamide: তেলতেলে ভাব আর পোরের চেহারায় কিছুটা।
  • Retinol: ত্বকের নবায়নে; ধীরে শুরু, গর্ভাবস্থায় নয়।
  • AHA: উপরের মরা চামড়া তোলে; রোদে সংবেদনশীলতা বাড়ায়।

একসাথে salicylic acid, AHA আর retinol শুরু করবেন না।

কখন ডার্মাটোলজিস্ট দেখাবেন

  • ব্ল্যাকহেডের সাথে অনেক লাল বা ব্যথাভরা ব্রণ।
  • পোর নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে; ডাক্তার পদ্ধতির বিকল্প বলতে পারেন।

সাধারণ রুটিন

সকাল

  1. ১
    মৃদু ক্লেনজার, বা শুধু পানি

    রাতের পর মুখ বেশি তেলতেলে না হলে সকালে শুধু পানিই চলে।

  2. ২
    হালকা ময়েশ্চারাইজার (জেল বা লোশন)

    ত্বকের পানি ধরে রাখে; গরমে হালকা টেক্সচার বেশি আরামের।

  3. ৩
    সানস্ক্রিন SPF 30 বা বেশি

    রোদ দাগ গাঢ় করে আর ত্বক জ্বালায়; মুখ আর গলায় প্রায় দুই আঙুল পরিমাণ, বাইরে থাকলে ২ ঘণ্টা পরপর আবার।

রাত

  1. ১
    মৃদু ক্লেনজার

    সারাদিনের ঘাম, ধুলো আর সানস্ক্রিন তুলে ফেলে; ঘষাঘষি লাগে না।

  2. ২
    salicylic acid, সপ্তাহে ২-৩ রাত দিয়ে শুরু

    ব্ল্যাকহেডের জায়গায়; আগে প্যাচ টেস্ট।

  3. ৩
    হালকা ময়েশ্চারাইজার (জেল বা লোশন)

    ত্বকের পানি ধরে রাখে; গরমে হালকা টেক্সচার বেশি আরামের।

এটা সাধারণ শিক্ষামূলক তথ্য, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা নয়।

যা সবাই জিজ্ঞেস করে

পোর কি খোলে আর বন্ধ হয়?

না। পোরে কোনো পেশি নেই। গরম পানি জমাট তেল একটু নরম করতে পারে, আর ঠান্ডা পানি সাময়িক টানটান ভাব দেয়, কিন্তু পোরের মাপ বদলায় না।

ব্ল্যাকহেড চেপে বের করা কি ঠিক?

চাপলে পোর চওড়া হয়, প্রদাহ আর দাগের ঝুঁকি বাড়ে। salicylic acid-এর মতো উপাদান আর ধৈর্য বেশি নিরাপদ; দরকার হলে ডার্মাটোলজিস্ট নিরাপদে বের করতে পারেন।

এরপর পড়ুন

নিজের ত্বকে মিলিয়ে দেখুন

স্কিন টেস্টে কয়েকটা প্রশ্ন আর মুখের একটা ছবি থেকে জানুন আপনার ত্বকের ধরন আর কোন উপাদান কাজ করবে। ফ্রি।

স্কিন টেস্ট শুরু করুন

তথ্যসূত্র

  1. Roh M et al. Sebum output as a factor contributing to the size of facial pores. Br J Dermatol 2006
  2. Flament F et al. Facial skin pores: a multiethnic study. Clin Cosmet Investig Dermatol 2015
  3. Youn SW et al. Regional and seasonal variations in facial sebum secretions. Skin Res Technol 2005
  4. American Academy of Dermatology — Acne: overview and self-care