রেটিনল, সহজ ভাষায়
Retinol · Retinoids · Retinal · Retinaldehyde · Vitamin A · Retinyl palmitate · HPR
রেটিনল একটা কসমেটিক রেটিনয়েড (ভিটামিন এ পরিবারের), বুড়িয়ে যাওয়ার ছাপ বা ব্রণের কিছু ফর্মুলায় ব্যবহার হয়; গর্ভাবস্থায় চলবে না। কতটা কাজ করে, তা ফর্মুলা আর ত্বকের সমস্যাভেদে আলাদা।
গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুনপ্রমাণ: জোরালো
লেবেলে যে নামে থাকে (INCI): Retinol, Retinal, Retinyl Palmitate, Retinyl Acetate, Hydroxypinacolone Retinoate, Retinyl Retinoate
লেখা: Oliareen সম্পাদনা দলডাক্তারের রিভিউ: বাকিশেষ হালনাগাদ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬আমরা কীভাবে লিখি
ভুল ধারণা বনাম আসল কথা
- ভুল ধারণা
- এটা তো শুধু একটা ক্রিম, গর্ভাবস্থায় একটু লাগালে সমস্যা নেই।
- আসল কথা
- না। গর্ভাবস্থায় আর বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করলে দোকানের রেটিনলসহ সব ধরনের রেটিনয়েড এড়িয়ে চলুন। জানার আগে ব্যবহার করে ফেললে আতঙ্কিত হবেন না, বন্ধ করে ডাক্তারকে জানান।
এটা কী
রেটিনয়েড ভিটামিন এ-র একটা পরিবার। কসমেটিকে থাকে Retinol, Retinal (retinaldehyde), Retinyl Palmitate আর Hydroxypinacolone Retinoate (HPR)। ট্রেটিনয়িন বা অ্যাডাপালিনের মতো শক্তিশালী রেটিনয়েড অনেক দেশে ওষুধ হিসেবে ডাক্তার দেন, সেগুলো এই পেজের বিষয় নয়।
কী করে
ত্বকে রেটিনোইক অ্যাসিডে রূপ নিয়ে কোষ বদলের গতি বাড়ায়, কোলাজেনে সাহায্য করে আর লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। বলিরেখা আর মসৃণতায় কসমেটিক উপাদানের মধ্যে এর প্রমাণ সবচেয়ে জোরালোগুলোর একটা, তবে ফল আসতে কয়েক মাস লাগে। কিছু অঞ্চলে মুখের পণ্যে রেটিনলের শক্তির আইনি সীমা আছে।
যেসব ক্ষেত্রে আলোচনায় আসে
এর মানে এই নয় যে এই ত্বক বা সমস্যার সবার এটা লাগবে।
সমস্যা
- বলিরেখা
- ব্রণ
- দাগ ও অসমান রং
- লোমকূপ
- মলিন ভাব
কীভাবে শুরু করবেন
রাতে, পরিষ্কার শুকনো ত্বকে অল্প পরিমাণে। অনেকে সপ্তাহে দু-তিন রাত দিয়ে শুরু করে ধীরে বাড়ান। শুষ্কতা কমাতে ময়েশ্চারাইজারের সাথে লাগানো যায়। শক্তির চেয়ে ফর্মুলা আর ত্বকের সহ্যক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ; পণ্যের নির্দেশনা মেনে চলুন।
সকাল নাকি রাত
শুধু রাতে। দিনে প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগান। একই রাতে AHA, BHA বা বেনজয়েল পারক্সাইড না লাগানোই ভালো।
নতুনদের জন্য
প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুষ্কতা, চামড়া ওঠা বা একটু লালচে ভাব হতে পারে, তাই একবারে একটাই নতুন অ্যাকটিভ। আগে প্যাচ টেস্ট করুন, আর রুটিনে অন্য এক্সফোলিয়েন্ট কিছুদিন বন্ধ রাখুন। ব্রণ, মেছতা বা অন্য কোনো ওষুধ চললে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
এটা সাধারণ শিক্ষামূলক তথ্য, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা নয়।
যার সাথে সাধারণত চলে
এগুলো উদাহরণ, সবার জন্য নিশ্চিত জুটি নয়।
যেখানে সাবধান থাকবেন
একসাথে অনেক অ্যাকটিভ লাগালে জ্বালা বাড়ে। কোনো ওষুধ চললে নতুন অ্যাকটিভের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- AHA (একই সময়ে)
- BHA (স্যালিসাইলিক অ্যাসিড) (একই সময়ে)
- বেনজয়েল পারক্সাইড (একই সময়ে)
- খাঁটি ভিটামিন সি (L-ascorbic acid) (সংবেদনশীল ত্বকে)
- গর্ভাবস্থায় ও সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এড়িয়ে চলুন
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বুকে লাগাবেন না
- প্রথম ২-৬ সপ্তাহ জ্বালা বা চামড়া ওঠা হতে পারে; পণ্যের বা ডাক্তারের নির্দেশনা মেনে চলুন
- রাতে ব্যবহার করুন; দিনে প্রতিদিন সানস্ক্রিন দিন
কী সমস্যা হতে পারে
শুরুতে কয়েক সেকেন্ডের হালকা চিনচিনে ভাব বা একটু শুষ্কতা হতে পারে। জ্বালা না কমলে, লাল ফুসকুড়ি, চুলকানি, ফোলা বা চামড়া ওঠা বাড়তে থাকলে ব্যবহার বন্ধ করুন। মুখ, ঠোঁট বা চোখ ফুলে গেলে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান।
কখন ডাক্তার দেখাবেনপ্রমাণ আর সময়
- প্রমাণ
- প্রমাণ: জোরালো
- পরিবর্তন দেখতে সাধারণত
- ব্রণ ও মসৃণতা ৮-১২ সপ্তাহে, বলিরেখা ১২-২৪ সপ্তাহে
প্রমাণ আসে নির্দিষ্ট ফর্মুলা আর শক্তি নিয়ে করা গবেষণা থেকে। আপনার পণ্যের ফল আলাদা হতে পারে।
যা সবাই জিজ্ঞেস করে
গর্ভাবস্থায় কি রেটিনল ব্যবহার করা যায়?
না। গর্ভাবস্থায় আর বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে রেটিনয়েড এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বুকে লাগাবেন না, আর ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
চামড়া ওঠা কি স্বাভাবিক?
প্রথম কয়েক সপ্তাহ হালকা শুষ্কতা বা চামড়া ওঠা প্রায়ই হয়। ব্যবহার কমিয়ে ময়েশ্চারাইজার বাড়ান। জ্বালা, ফোলা বা ফুসকুড়ি হলে বন্ধ করুন।
রেটিনল নাকি বাকুচিওল?
রেটিনলের প্রমাণ অনেক বেশি। বাকুচিওলের গবেষণা কম, আর প্রাকৃতিক হলেই গর্ভাবস্থায় নিরাপদ প্রমাণ হয় না। তুলনামূলক গাইডটা পড়ুন।